হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির সঙ্গে সাক্ষাতে আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি সাম্প্রতিক শহীদদের এবং এক শহীদ নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই শহীদরা শুধু ধর্মের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করেননি, বরং ইরান এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকার জন্যও গৌরব বয়ে এনেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন যে আল্লাহর সাহায্য দৃশ্যমান হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে। কেউ কল্পনাও করেনি যে ইরান এভাবে দুটি বিশ্বশক্তির সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে এবং তাদের অপদস্থ করবে।
তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইরানি জাতির এই সাফল্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতিরই একটি প্রতিফলন। আল্লাহ যেমন কোরআনে বলেছেন: ﴿هُوَ الَّذِی أَیَّدَکَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِینَ﴾
তিনি বলেন, আল্লাহ ইসলামী সমাজকে একদিকে ঐশী সাহায্যের মাধ্যমে, অন্যদিকে জনগণের উপস্থিতি ও ঈমানের মাধ্যমে সাহায্য করেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও তারই বাস্তব উদাহরণ।
রাশিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা শুধু ইরানি নই, আমরা মুসলিমও। তাই রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি আপনাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব রয়েছে-রাশিয়ার মুসলিম আলেম ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক ও ধর্মতাত্ত্বিক সংলাপ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, এই সংলাপের মূল বিষয় হওয়া উচিত আল্লাহ-পরিচয়, পরকাল, মানুষের প্রকৃত সত্তা এবং মৌলিক আকিদাগত বিষয়াবলি। যেমন-আল্লাহ আছেন, চিরস্থায়ী জীবন রয়েছে। এ ধরনের আলোচনা মানুষের অন্তর্নিহিত ঈশ্বরপ্রদত্ত স্বভাবকে জাগ্রত করতে পারে।
তিনি ইমাম খোমেনির পক্ষ থেকে মিখাইল গর্বাচেভের কাছে পাঠানো ঐতিহাসিক বার্তার প্রসঙ্গ স্মরণ করে বলেন, ওই চিঠি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চিঠি ছিল না। আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে এটি কোনো রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র নয় যা শুধু হস্তান্তর করা হবে। বরং এটি ছিল একটি শিক্ষামূলক চিঠি, যা পড়তে হবে এবং যার শিক্ষা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কারণ এতে মানুষকে নিজের প্রকৃত সত্তা, আল্লাহ এবং তার চিরন্তন পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা করতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাই এই ধরনের জ্ঞান ও চিন্তাধারা বিশ্বের চিন্তাবিদদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে অব্যাহত রাখা উচিত।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি শত্রুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও জোর দিয়ে বলেন, "ইসরায়েল সর্বদা বিশ্বাসঘাতকতা ও গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত। পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে:
﴿لا تَزالُ تَطَّلِعُ عَلی خائِنَةٍ مِنْهُمْ﴾
তিনি বলেন, তারা প্রতিদিন নতুন পরিকল্পনা করে এবং গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। বর্তমান অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে যে শত্রুরা গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানি জাতির ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তাই সচেতনতা, দূরদৃষ্টি এবং আল্লাহর ওপর ভরসাই দেশের মর্যাদা ও শক্তি রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
বক্তব্যের শেষে তিনি আবারও রাশিয়ার মুসলিম চিন্তাবিদদের সঙ্গে বৌদ্ধিক ও ধর্মতাত্ত্বিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে যুক্তিনির্ভর ও কোরআনিক শিক্ষার যথাযথ ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিশ্বে সত্য, ন্যায়বিচার এবং আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষার আরও বিস্তার ঘটবে।
আপনার কমেন্ট